রাজপ্রাসাদের বিশাল সিংহদ্বার অতিক্রম করেই নন্দী কাঁপতে লাগল। সারা নগরীজুড়ে বিজয়ের উল্লাস, কিন্তু তার শরীরে মৃত্যুর শীতল স্পর্শ। সামনে সিংহাসনে বসে আছেন মহারাজ গুরুভদ্র। নন্দী জানে, তার আজকের উপস্থিতির অর্থ একটাই—শেষ বিচার।
“রাজদ্রোহী নন্দী! কী বলার আছে?” মহারাজের কণ্ঠে বজ্রধ্বনি।
নন্দী শান্ত গলায়, “আমি রাজদ্রোহী নই, আমি সত্যের সৈনিক।”
দরবারে হাসির গুঞ্জন উঠল। রাজামহলের মন্ত্রী সেনাপতিরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
“সত্য? সত্য তো বিজয়ীর হাতে গড়া!”
“সত্যের সৈনিক?” মহারাজ গুরুভদ্র উঠে দাঁড়ালেন।
“তুমি কি জানো, ইতিহাস কীভাবে লেখা হয়?”
নন্দী কিছু বলল না।
“ইতিহাস লেখা হয় বিজেতার রক্ত-দাগ দেওয়া তলোয়ার দিয়ে। যে জেতে, সেই ন্যায়বান হয়, যে হারে, সে রাজদ্রোহী হয়!”
নন্দী মৃদু হাসল।
“তাহলে আমাকে হত্যা করুন, মহারাজ। কিন্তু মনে রাখবেন, এই নগরীর ধুলোতেও আমি থাকব। হয়তো আজ আপনি জয়ী, কিন্তু কাল ইতিহাসের কোনো এক কোণে আমার নাম থেকে যাবে—একজন বিপ্লবীর, একজন সত্যযোদ্ধার!”
তারপর তলোয়ার উঁচু হলো।
সেদিন সন্ধ্যায় নগরীর চত্বর ভরে উঠল উল্লাসধ্বনিতে—বিজয়ীর আনন্দ।
কিন্তু বহু বছর পর, রাজপ্রাসাদের পোড়ামাটির নিচে কেউ একজন লিখল—”নন্দী বেঁচে আছে।”
১৫ মার্চ ২০২৫, কুড়িগ্রাম।