কল্যাণীয়াসু,
সকালবেলাকার রেলযাত্রার সেই মুহূর্ত আজও আমার অন্তঃকরণে এক অনন্ত সঙ্গীতের ন্যায় অনুরণিত হইয়া চলিয়াছে। বাহিরে মেঘমল্লার-আচ্ছন্ন আকাশ, অর্দ্ধনিমীলিত প্রভাতের আলো, আর ধারাস্রোতে পতিত বৃষ্টিবিন্দু—তাহারই অন্তরালে হঠাৎ তোমার আবির্ভাব আমার নিকট হইয়াছিল দ্যুতিময় দেবীর প্রত্যক্ষ প্রকাশ।
তুমি আমার পাশে বসিয়া রহিলে, অথচ আমি অনুভব করিলাম, যেন সমগ্র মহাকালের ভ্রান্তি মুছিয়া এক অতীত-অধরা পরিণয় হঠাৎ অমোঘ নিয়তির বিধানে পুনর্জন্ম লাভ করিল। তোমার চক্ষুর লাজনম্র দৃষ্টি, করকমলের সূক্ষ্ম কম্পন, অধরকোণের হাস্যছায়া—এসবই আমার অন্তরের নির্জন পরিসরে বহন করিল অপার্থিব সুধারসের সঞ্চার।
হে অচিন্তিতা, তিন দিবসের স্বল্পপরিচয়ই আমার চিত্তে যুগযুগান্তরের সঞ্চিত প্রণয়ের আভাস বহন করিতেছে। আমি যেন অনুভব করি, পূর্বজন্মের অপ্রকাশিত কাব্য হঠাৎ আজ ভোরের বৃষ্টিধূসর ট্রেনযাত্রায় পুনরায় রচিত হইয়াছে। তোমার হাস্যরেখার লঘু স্পন্দন, দৃষ্টিপাতে নিহিত গভীর অনিমেষতা, এমনকি অব্যক্ত নীরবতা—সবই আজ আমার ভাবনায় এক অনিবার্য অনুরণন।
যদি পুনরায় আমাদের পথ মিশ্রিত হয়, তবে আমি আমার সমস্ত প্রেম কিংবা প্রণয় যাই বলো না কেন, তোমারই চরণে সমর্পণ করিব। আর যদি নিয়তির নির্মমতায় আমরা দূরদূরান্তরে নিক্ষিপ্ত হই, তবে জানিও—আমি আজীবন সেই প্রভাতের বৃষ্টিভেজা মুহূর্তকেই আমার জীবনের একমাত্র পূর্ণতা বলিয়া ধারণ করিব।
অচেনার অঙ্গনে যাহা জন্ম নিল, তাহাই আমার জীবনের চিরন্তন প্রণয় হইয়া থাকুক।
ইতি
আমাকে যেই নামে মনে রাখো।